শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ন

বিদ্যুৎ নেই, বিল আছে নবাবগঞ্জে মানববন্ধন

বিদ্যুৎ নেই, বিল আছে নবাবগঞ্জে মানববন্ধন

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥
বিদ্যুৎ নেই, অথচ মাস শেষে বিল ঠিকই আসে। কখনো ১২ ঘণ্টারও বেশি লোডশেডিং, আবার কখনো কয়েক মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ এসে ফের চলে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের এমন ভোগান্তিতে ক্ষোভ জমেছে ঢাকার নবাবগঞ্জের গ্রাহকদের মধ্যে। এবার সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে মানববন্ধনে। গ্রাহকদের অভিযোগ, লাগামহীন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি অনেককে অস্বাভাবিক ও ‘ভুতুড়ে’ বিলের বোঝাও টানতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট নবাবগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সাধারণ গ্রাহক ও ভুক্তভোগীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এসব অভিযোগ তুলে দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের অভিযোগ, দিন-রাত মিলিয়ে অনেক এলাকায় ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে কখন ফিরবে, তার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সাধারণ পরিবারগুলো। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা ও ছোট কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গরমে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগও বাড়ছে।

মানববন্ধনে শুধু লোডশেডিং নয়, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগও তোলা হয়। গ্রাহকদের দাবি, কোনো কোনো মাসে প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় বিল অস্বাভাবিক বেশি আসছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে দুর্ভোগের পাশাপাশি বিল পরিশোধ নিয়েও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব, মিটার রিডিং ও বিল তৈরির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

 বিদ্যুৎ নেই, বিল আছে নবাবগঞ্জে মানববন্ধন

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ লোডশেডিংকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে। একই সঙ্গে অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগ তদন্ত করে গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। প্রয়োজনে নবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. খালেদুল ইসলাম বলেন, বরাদ্দ কম থাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের দাবি, বরাদ্দ সংকট থাকলেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিল নিয়ে ওঠা অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের সংগঠক মো. রাসেল আহমেদ, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য মিজানুর রহমান মোল্লা, দন্ত চিকিৎসক মো. মাসুদ, গ্রাহক নাসরিন আক্তার ও সালমা বেগম প্রমূখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com